সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক উনার অর্থ ও তাৎপর্য মুবারক

Code: 004

Price: 004

Availability: Yes

Condition: New

‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত (اٰمِنَةُ, اَمِيْنَةُ) আমিনা আলাইহাস সালাম’। এই সম্মানিত নাম মুবারক উনার আভিধানিক অর্থ মুবারক হচ্ছেন, ঈমানদার, মু’মিনা, বিশ্বাসী, নিরাপদ, বিশ্বস্ত, আমানতদার ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক থেকেই উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মূলত যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম হিসেবে সর্বপ্রকার সর্বোত্তম গুণাবলী মুবারক হাদিয়া মুবারক করে সর্বশ্রেষ্ঠ ঈমানদার হিসেবেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন এবং দুনিয়ার যমীনে প্রেরণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

ঈমানদার, মু’মিনা: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  তিনি ছিলেন কায়িনাতের বুকে সর্বশ্রেষ্ঠা ঈমানদার, মু’মিনা। সুবহানাল্লাহ! তিনি মহান আল্লাহ পাক  উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের প্রতি যেরূপ সর্বোত্তমভাবে সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন, কায়িনাতের কারো পক্ষে এরূপ সর্বোত্তমভাবে সম্মানিত ঈমান মুবারক আনা সম্ভব হয়নি এবং হবেও না। সুবহানাল্লাহ! মূলত, উনার সম্মানার্থে সমস্ত কায়িনাত সম্মানিত ঈমান মুবারক লাভ করেছে, করছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত সম্মানিত ঈমান মুবারক লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! তাই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ‘আমিনা বা ঈমানদার, মু’মিনা’। সুবহানাল্লাহ!

আমানতদার: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ আমানত ও নিয়ামত মুবারক হিসেবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গ্রহণ মুবারক করেছেন, ধারণ মুবারক করেছেন এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এটা উনার একক, অনন্য খুছূছিয়াত বা বেশিষ্ট্য মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ‘আমিনা বা সর্বশ্রেষ্ঠা আমানতদার’। সুবহানাল্লাহ!

নিরাপদ: মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনাকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা থেকে নিরাপদ বা মুক্ত করে, সমস্ত কায়িনাত থেকে বেনিয়ায করে উনাকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.

 অর্থ: “হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

هُمْ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنَ السُّوْءِ وَاخْتَصَّهُمْ بِرَحْمَتِهٖ.

অর্থ: “উনারা হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা ও পাপ থেকে পূত-পবিত্র রেখেছেন এবং উনার সম্মানিত রহমত মুবারক দ্বারা খাছ করে নিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.

অর্থ: “আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দুররে মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                  উপরোক্ত সম্মানিত আয়াত শরীফ ও সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ‘আমিনা বা নিরাপদ’ তথা পূত-পবিত্রা, বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ!

বিশ্বাসী, বিশ্বস্ত: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কি আশ্চার্যজনক সামনযশ্যতা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন  (الامين)আল আমীন, আর উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন  (امينة)‘আমীনা’। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক থেকেই সকলের মাঝে বিশ্বাসী, বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক থেকেই সকলের মাঝে বিশ্বাসী, বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে একখানা ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হয় যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক যখন সাত বছর, তখন একদা তিনি উনার এক মুহব্বতকারিণীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় তাদের বাড়ির কাছে পথিমধ্যে একটি স্বর্ণমুদ্রা দেখতে পেলেন। তিনি মুদ্রাটি তুলে নিলেন। পরক্ষণে তিনি চিন্তা করলেন, এটা কার মুদ্রা, তা হাতে নেয়া কতটুকু ঠিক হলো। যে তা হারিয়েছে নিশ্চয়ই সে তা অনুসন্ধান করছে। হয়তো সে খোঁজ করতে করতে এখানেও আসবে। তা যথা স্থানে পড়ে থাকলে দেখে সে নিজের জিনিসটি তখন পেতে পারবে। তিনি এরূপ ভেবে সে দীনারটি যেখানে পড়ে ছিলো, সেখানেই রাখতে গেলেন। কিন্তু হঠাৎ আবার উনার মনে উদয় হলো যে, জিনিসটি মূল্যবান, তাই ওখানে রেখে দিলে হয়তো তা প্রকৃত মালিকের হাতে না পড়ে অন্যের হাতেও পড়ে যেতে পারে। কারণ পথের উপরে তা পড়ে থাকলে যে দেখবে সে-ই তুলে নিবে। অতএব, তা ওখানে ফেলে রাখা ঠিক হবে না। তার চেয়ে তা নিজের নিকট রেখে অনুসন্ধান করে দেখা উত্তম যে, দীনারটি কে হারিয়েছে?

অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীনারটি হাতের মুঠোয় নিয়ে উনার মুহব্বতকারিণীর বাড়িতে গেলেন এবং তার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, তোমাদের বাড়ীতে আসার সময় আমি পথে এই দীনারটি পেয়েছি। বলতো এখন কিভাবে এর প্রকৃত মালিককে বের করে তা তাকে ফিরিয়ে দিতে পারি? সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক শুনে উনার মুহব্বতকারিণী বললো, আরে আপনি এ ব্যাপারে এত ব্যস্ত হয়েছেন কেন, কত জনেরই কতো জিনিস হারিয়ে যায়। হারানো জিনিস আবার ফেরত পায় নাকি? আর পথের উপরে পাওয়া জিনিস ফেরতই বা কে কবে দেয় শুনি? আপনি এই বিষয়টি নিয়ে এতো চিন্তা করছেন কেন? চলুন, আমরা দোকানে যেয়ে তা দ্বারা ভালো কিছু জিনিস কিনে খাই আর মনের মতো কতগুলি সখের জিনিস ক্রয় করি।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দেখলেন, উনার মুহব্বতকারিণীর মতলব মোটেই ভালো নয়। তিনি তার কথায় চরম অস্তুষ্ট হলেন এবং তাকে বললেন- না, তা কখনো হতে পারে না। দীনারটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তাকে তা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। তিনি মনে মনে স্থির করলেন, বাড়ি যেয়ে উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিতা হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের নিকট দীনারটির কথা বলবেন এবং উনাদের দ্বারা এর মালিককে খোঁজ করে দীনারটি তার হাতে ফিরিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আর বিলম্ব না করে নিজেদের বাড়ি অভিমুখে চললেন। পথে বের হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর দেখলেন, এক বৃদ্ধ লাঠি ভর দিয়ে ধীরে ধীরে এই দিকে এগিয়ে আসছে আর সে চোখের দৃষ্টি নিচু করে পথের উপরে কি যেন খুঁজতে খুঁজতে অগ্রসর হচ্ছে। বৃদ্ধের গতি-বিধি ও চোখ-মুখের অবস্থা দেখে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুঝতে আর বাকী রইলো না যে, এই বৃদ্ধ লোকটিই দীনারটি হারিয়েছে। তিনি বৃদ্ধের নিকটবর্তী হয়ে কোমল কণ্ঠ মুবারক-এ জিজ্ঞাসা করলেন, এই পথে আপনি কি কিছু হারিয়েছেন? বৃদ্ধ লোকটি উত্তর দিলো, হ্যাঁ মা, আমার একটি স্বর্ণমুদ্রা এই রাস্তার উপরই কোনখানে যেন পড়ে গেছে। দীনারটি বড় কষ্টে আমি সঞ্চয় করেছিলাম। পর পর তিনদিন অনাহারে থাকার পর অবশেষে বাধ্য হয়ে আজ সেই সঞ্চিত মুদ্রাটি নিয়ে কিছু খাবার ক্রয় করার জন্য বাজারে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রাস্তায় চলাকালে না জানি কোথায় কেমনভাবে দীনারটি পড়ে গেছে। এখন আমার ঘরে এমন আর কোনো সম্বল নেই যে, যা দ্বারা একটি দিনেরও মাত্র খোরাক যোগাড় করতে পারি। এখন নিশ্চয়ই আমাকে ঘরের সবাইকে নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে।

বৃদ্ধের এই করুণ কথা শুনে এবং তার বিষণœ বদন দেখে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হৃদয় মুবারক ব্যথিত হয়ে উঠলেন। তিনি বৃদ্ধের হাত ধরে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসলেন এবং উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে বলে তাকে সযতেœ পেট ভরে খাওয়া-দাওয়া করালেন। সুবহানাল্লাহ! বৃদ্ধ লোকটি এরূপ যতœ লাভ করে এবং তৃপ্তি সহকারে খাওয়া-দাওয়া গ্রহণ করে দীনারের কথা একরূপ ভুলেই গিয়েছিলো। তাছাড়া কোনো কিছু হারিয়ে গেলে তা আর পুনরায় পাওয়া যায় না, এইরূপ ধারণা করে বৃদ্ধ বিদায় হওয়ার জন্য তৈরি হলো এবং বিদায় গ্রহণকালে তার প্রতি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এরূপ সর্বোত্তম ব্যবহারের কারণে কৃজ্ঞতা প্রকাশ করলো এবং তার ভাষায় উনার জন্য দোয়া করলো। অতঃপর বৃদ্ধ লোকটি চলে যাওয়ার জন্য উঠে পা বাড়াবে ঠিক এমন সময় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি আপনাকে যেজন্য এখানে ডেকে এনেছি তা তো বলা হয়নি। ‘দেখুন তো’ এই দীনারটি আপনার কিনা? এই কথা বলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীনারটি তার হাতে দিলেন। বৃদ্ধ লোকটি দীনারটি হাতে নিয়ে অত্যন্ত খুশি হয়ে বললো, হ্যাঁ, মা, এই দীনারটিই হারিয়ে গিয়েছিলো। এই তো বহুদিন  ঘরে রাখার ফলে তার কোণায় যেই দাগটি পড়েছিলো, তা দেখা যাচ্ছে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, বেশ, তাহলে এবার আপনার দীনারটি আপনি নিয়ে যান। দীনারটি আমি পথে পেয়ে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেবার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। এই মুহূর্তে আমি মালিকের হাতে দীনারটি তুলে দিতে পেরে আনন্দ অনুভব করছি। সুবহানাল্লাহ!

আনন্দের আতিশয্যে বৃদ্ধের নেত্রযুগল হতে আনন্দের তপ্ত আঁশু দু’ গাল বেয়ে ঝরে পড়লো। সে বললো, মা আপনি দীর্ঘজীবী হোন! এতটুকু সম্মানিত বয়স মুবারক-এ সততার যে প্রমাণ আপনি দিলেন, তাতে আশ্চর্য না হয়ে পারছি না। মা আপনার জন্য দোআ করি, ইতহাসে আপনি বাক্বা লাভ করুন, যে জীবন ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশ্ববাসী শ্রদ্ধাভরে যেন আপনার সম্মানিত নাম মুবারক স্মরণ করে এবং আপনার এ সম্মানিত আদর্শ মুবারক উনার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। এই কথা বলে বৃদ্ধ লোকটি বিদায় নিলো। সুবহানাল্লাহ!

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য শুধু ওই বৃদ্ধ লোকটিই দোয়া করলো না; বরং উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং মহাসম্মানিতা হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা উনাদের এই অল্প বয়স্কা মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম উনার এমন সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক ও সততা মুবারক উনাদের বহি:প্রকাশ মুবারক দেখে অভিভূত হয়ে পড়লেন এবং গর্বে ও আনন্দে স্বীয় মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম উনার জন্য সম্মানিত দু’হাত মুবারক তুলে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দরবার শরীফ-এ সম্মানিত দোয়া মুবারক করলেন। সুবহানাল্লাহ!

Please leave a comment about our product

Write Your Comment